আধ্যাত্মিকতা এক ধরনের মাদকতা। আমি কিভাবে এই আধ্যাত্মিকতায় এলাম যখন পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তখন অবাক হই। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, আর্থিক মানসিক দৈহিক বিপর্যয়ের পরে আমি সুন্দরভাবে অদ্ভুতভাবে আধ্যাত্মিকতায় চলে এলাম। এসে বুঝতে পারলাম যে এটাই আমার লক্ষ্য ছিল ঠাকুর যেনতেন প্রকারে আমাকে তাই ডেকে নিলেন।
আধ্যাত্মিকতা আমাদের কি দেয়? কেন আমরা আধ্যাত্মিকতায় আসবো?
প্রথম যেটা হয় সেটা হল নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা। সংসার কি করে? সংসার সব সময় বলে তুমি এটা পারো না তুমি ওটা পারো না তোমার দ্বারা এটা সম্ভব নয় তুমি খারাপ, ইত্যাদি প্রকৃতি। অপরদিকে আধ্যাত্মিকতা বলে তুমিই পারবে তোমার মধ্যেই সেই ক্ষমতা আছে। আধ্যাত্মিকতা একজন ক্রিমিনালকে বা একজন সাধারণ ব্যক্তিকে আস্তে আস্তে গ্রহণ করে আমূল পরিবর্তন করে। সংসার সেটা পারে না। তাইতো রত্নাকর যিনি রাম বলতেই পারতেন না তিনি বাল্মিকী মুনি হয়ে রামায়ণ রচনা করে ফেললেন।
দ্বিতীয়ত যেটা ম্যাজিকের মতন কাজ করে সেটা হল নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা হতে হতে, যে আমি ঠাকুরের একটা অংশ, আমার পক্ষে সব সম্ভব এই ধারণা হতে হতে সেই ব্যক্তি অন্যের প্রতিও খুব সহানুভূতিশীল হয়ে যায়। আর কারোর নিন্দা সে করতে পারে না সকলকে সে গ্রহণ করে সকলকে সে আলিঙ্গন করে অনায়াসে।
তৃতীয়ত আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে যেটুকু বুঝেছি তা হল আধ্যাত্মিকতা মানুষের মুখ ও মন এক করে দেয় অর্থাৎ আমি যা কথা বলছি আর যা মনে ভাবছি, মা কাজ করছি তার মধ্যে কোন পার্থক্য বা বৈষম্য থাকে না।
তারপরে তো জ্ঞান হয় আমি আসলে কে, সেটার উপলব্ধি হয়, তার ফলে কোনরকম দুঃখই উক্ত ব্যক্তিটিকে স্পর্শ করতে পারে না।
যেমন আমার দুটো কিডনি খারাপ, অকেজো হয়ে পড়ে আছে সপ্তাহে তিনবার আমাকে ডায়ালিসিস নিতে হয়। প্রচন্ড সুগার থাকার দরুন কিডনি থেকে আমার চোখ নষ্ট হয়ে যায় ডান চোখে আমি কিছুই দেখতে পারি না। আমার প্রিয় খাবারগুলো নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। জলের মতন পয়সা খরচ হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছি কয়েক মাসের মধ্যেই হয়তো দেউলিয়া হব। তবুও আমার আনন্দ কমে না আমি সবসময় ঠাকুরের পথে ঠাকুরের সাথে রয়েছি দেখে আমি আমার অদ্ভুত, ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারছি। আর্থিক বিপর্যয় সত্বেও আমি জানি কোথাও না কোথাও থেকে সব জোগাড় হয়ে যাবে। এ এক অদ্ভুত মাদকতা। আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো নিজেকে চেনা, নিজের স্বরূপকে জানা। আধ্যাত্মিকতা সাফল্য থেকে বড় একটা আসে না নৈরাস্য থেকে আসে তাইতো গীতার প্রথম অধ্যায় আমরা দেখি অর্জুন বিষাদ যোগ। এই বিষাদ একটা পবিত্র যোগ যা আমার সাথে আমাকে পরিচয় করায়। ঈশ্বরের সাথে আমার মিলন হবে কি না হবে আমি জানিনা তবে নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া, নিজের মিলন, অপরকে গ্রহণ করার ক্ষমতা দৈহিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে মুক্ত করা, নির্লিপ্ত করা এসব আমি কখনোই বুঝতে পারতাম না যদি না আধ্যাত্মিকতা আমায় সাদরে আলিঙ্গন করত।
No comments:
Post a Comment