ছেলে-মেয়েদের
জ্বলজ্বলে ভবিষ্যৎগুলো
ঝলসে যায়—
রাজনীতির আগুনে।
কী আশ্চর্য ইতিহাস—
আগুন বদলেছে,
সময় বদলেছে,
বদলেছে পোড়ানোর ভাষা;
শুধু বদলায়নি
মানুষের নামে মানুষকে
উৎসর্গ করার অভ্যাস।
একদিন
ধর্মের নামে
মেয়েদের ঠেলে দেওয়া হতো
স্বামীর চিতায়;
আজও কি তবে
অন্য কোনও আগুনে
পুড়ে যায়
আমাদের পড়ুয়াদের স্বপ্ন?
যারা ছোট ছোট হাতগুলোকে
মিটিংয়ে নিয়ে যায়,
মিছিলে হাঁটায়,
মঞ্চে দাঁড় করায়—
তারা কি একবারও দেখে
সেই হাতের আঙুলে
এখনও অক্ষর শেখার কালি লেগে আছে?
যাদের অঙ্গুলী হেলনে নষ্ট হচ্ছে শত সহস্র শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন তাদের কাছে
কি যুবক যুবতীরা
শুধুই
পতাকার সংখ্যা,
স্লোগানের সারি,
ভিড়ের হিসেব?
না।
কোনও শিশুর হাতে
পতাকা নয়,
থাকুক বই।
কোনও মিছিলে নয়,
তার পায়ের শব্দ
শোনা যাক
কলেজের করিডরে।
তার কণ্ঠে উঠুক
প্রশ্ন—
কোনও স্লোগান নয়;
তার চোখে ফুটুক
স্বপ্ন—
কোনও দলের রং নয়।
শিশুর ভবিষ্যৎ
কোনও মঞ্চের পেছনে
ঝোলানো ব্যানার নয়,
কোনও মিছিলে
গোনা একটি মাথা নয়।
সে একটি সম্পূর্ণ মানুষ—
তার নিজের আকাশ আছে,
নিজের পথ আছে,
নিজের আগামী আছে।
তাই আজ
কোনও পক্ষের হয়ে নয়,
কোনও পতাকার নিচে নয়,
শুধু একজন মানুষের মতো
এইটুকু প্রার্থনা—
আমাদের সন্তানদের
আগুন থেকে দূরে রাখুন।
তাদের শৈশব
স্লোগানে পুড়তে দেবেন না,
তাদের স্বপ্ন
স্বার্থের বেদিতে
জলাঞ্জলি দেবেন না।
তাদের ভবিষ্যৎকে
জ্বলজ্বলে থাকতে দিন—
আগুনে নয়,
আলোর মতো।
No comments:
Post a Comment